মহাত্মা গান্ধীর জীবনযাপন ছিল সাদাসিধে। খাবারের ক্ষেত্রেও তিনি সাধারণ ও সহজলভ্য খাবারকেই গুরুত্ব দিতেন।
তার খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল অহিংসা, সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের দর্শন।
গান্ধী ছিলেন নিরামিষভোজী। অহিংসায় বিশ্বাসী হওয়ায় কোনো জীবের ক্ষতি না করার বিষয়টি তিনি খাবারের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দিতেন। নিরামিষ খাবারকে তিনি শুধু ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অভ্যাস হিসেবে দেখতেন না, এর সঙ্গে নৈতিকতারও সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করতেন।
‘দ্য মোরাল বেসিস অব ভেজিটেরিয়ানিজম’ বইয়ে নিরামিষভোজিতা নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন গান্ধী। তার মতে, মাংস ও প্রাণিজ খাবার এড়িয়ে চলা নৈতিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত। পাশাপাশি তিনি মনে করতেন, নিরামিষ খাবার স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশের জন্যও উপকারী।
খাবারের ক্ষেত্রে বিলাসী আয়োজনের চেয়ে সবার নাগালের মধ্যে থাকা খাবারকে গুরুত্ব দিতেন তিনি।
শস্য, ডাল, তাজা ফল ও শাকসবজি ছিল তার খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
গান্ধীর পছন্দের খাবারের মধ্যে ছিল ডাল ও ভাত। বিশেষ করে বাদামি চালের ভাত তিনি পছন্দ করতেন। দইও ছিল তার পছন্দের খাবারের তালিকায়। ফলের মধ্যে কলা, পেয়ারা ও পেঁপে নিয়মিত তার খাদ্যতালিকায় থাকত।
গান্ধীর খাদ্যাভ্যাসে তাই জটিলতা বা বিলাসিতার চেয়ে সরলতাই ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়ভাবে পাওয়া সহজ ও পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে শরীর ও মন সুস্থ রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দিতেন।